Pages

Sunday, March 24, 2013

মোবাইল ফোনের ডেটা ব্যাক আপ রাখুন আজীবন বিনামূল্যে

মোবাইল ফোনের ডেটা ব্যাক আপ রাখুন আজীবন বিনামূল্যে

টিউন করেছেন : রিপন |

 

ভূমিকা
মাইক্রোসফট-এর মাইফোন সফটওয়্যারটি সম্পর্কে অনেকেই নিশ্চয়ই জানেন। অনেকেই হয়তো ব্যবহারও করছেন। এ সফটওয়্যারটির ক্ষেত্রে যারা নতুন তারা চমৎকার এ সফটওয়্যারটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে মাইফোন.মাইক্রোসফট.কম- ভিজিট করুন।
2010-06-06 22 51 18
সফটওয়্যারটি দিয়ে যা করা যায়ঃ-
১। মোবাইল ফোনের সকল ডেটা বিনামূল্যে আজীবন ব্যাক আপ রাখা।
২। হারিয়ে যাওয়া ফোনের লোকেশন চিহ্নিত করা (শর্ত সাপেক্ষে)।
৩। ফেসবুক, ফ্লিকার, মাইস্পেস, উইন্ডোজ লাইভ- এর মতো সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে আপনার মোবাইল ফোনের ডেটা শেয়ার করা।
৪। হারিয়ে যাওয়া ফোনের সকল ডেটা লক করা বা মুছে দেয়া (শর্ত সাপেক্ষে)।
৫। মোবাইল ফোনে বাড়তি স্পেস ব্যবহার করা।
কি থাকতে হবেঃ-
ফ্রি এ সফটওয়্যারটি ব্যবহার করতে হলে আপনার উইন্ডোজ লাইভ আইডি (হটমেইল, মেসেঞ্জার বা এক্সবক্স লাইভ একাউন্ট) থাকতে হবে। সেইসাথে উইন্ডোজ, এন্ড্রয়েন্ড বা ব্ল্যাকবেরী সিষ্টেমের মোবাইল হলে তো কথাই নেই। তবে সিনক্রোনাইজ সুবিধা রয়েছে- এমন যে কোন ফোনে সফটওয়্যারটি ব্যবহার করা যাবে।
আপনাকে যা করতে হবে
পিসি থেকে সাইটে ঢুকে ''সেন্ড লিঙ্ক টু ফোন''- এ ক্লিক করে কান্ট্রি কোডসহ আপনার মোবাইল নাম্বারটি দিয়ে দিন। আপনার মোবাইলে লিঙ্ক আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। মোবাইলে আসা লিঙ্কে ক্লিক করে ধীরে সুস্থে সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে নিন। আপনার মোবাইল ফোনের প্রোগ্রাম অথবা সেটিংস মেন্যু থেকে মোবাইল ফোনে সফটওয়্যারটি সেট আপ দিন। সেট আপ সফল হলে উইন্ডোজ লাইভ একাউন্টে সাইন ইন করতে বলবে। সাইন ইন- এর পর ডাটা সিনক্রোনাইজ করতে বলবে। সিনক্রোনাইজ সেটিং 'ম্যনু্য়্যাল'- এ সেট করে ডাটা সিনক্রোনাইজ শুরু করুন (ইন্টারনেটের আনলিমিটেড কানেকশন/ ডাটা প্ল্যান না থাকলে 'অটোমেটিক' সিনক্রোনাইজ না করতে আপনাকে রিকমেন্ড করা হবে)। প্রথমবারের চেষ্টায় সিনক্রোনাইজিং ফেইল দেখাতে পারে (যেহেতু মোবাইলের নেটওয়ার্কের উপর বিষয়টি নির্ভর করে)। সিনক্রোনাইজ ফেইলড্ দেখালে মোবাইল ফোনটি রিষ্টার্ট দিন (অফ করে অন করুন)। নতুন করে সিনক্রোনাইজ শুরু করুন। মোবাইল ফোনে ডেটা (ফোনবুক, ম্যাসেজ, ফটো, ভিডিও) বেশী থাকলে সিনক্রোনাইজিং- এ বেশ কিছুটা সময় নিবে।
অতঃপর
সিনক্রোনাইজ সফল হলে দেখুন, আপনার মোবাইল ফোনের সব ডেটা নিয়ে এই সাইটে ২০০ এম বি'র একটা ফ্রি একাউন্ট তৈরী হয়ে গিয়েছে। এখন যে কোন পিসি থেকে আপনার মোবাইল ফোনের ডেটা একসেস করতে পারবেন। ফোন চুরি হলে বা হারিয়ে গেলেও সারা জীবন ধরে রেকর্ড করা কন্টাক নাম্বার, ম্যাসেজ, ছবি, গান, ভিডিওগুলো নিয়ে আর ভাবতে হবে না। মাসে মাসে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে মোবাইল ফোন কোম্পানীগুলোর ডাটা ব্যাক আপ সার্ভিস নিতে হবে না।
মনে রাখবেনঃ- একটানা ৬ মাস সার্ভিসটি একসেস না করলে সকল ডেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাবে।
পরামর্শঃ- নিজের না থাকলে সিনক্রোনাইজ সুবিধা রয়েছে- আত্মীয়-পরিজন বা বন্ধু-বান্ধবের এমন যে কোন ফোন সেটে আপনার সিমটি লাগিয়ে নিয়ে সার্ভিসটি ব্যবহার করুন। ডেটা ব্যাক আপ করে সিম খুলে আপনার সাধারণ ফোন সেটে ফিরে আসুন।

বাংলালিংক ফোন ব্যাক-আপ

বাংলালিংক ফোন ব্যাক-আপ

অভিনব ও প্রয়োজনীয় উপায়ে বাংলালিংক প্রতিনিয়ত মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের চেষ্টা করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলালিংক নিয়ে এসেছে বাংরালিংক ফোন ব্যাকআপ!
বাংলালিংক ফোন ব্যাকআপ সার্ভিস-এর মাধ্যমে আপনি আপনার মোবাইল ফোনের সকল কনট্যাক্ট নাম্বার, ক্যালেন্ডার, কার্যসূচী, এসএমএস, ফটো, ভিডিও এবং অডিও নিরাপদে রাখতে পারবেন। ফোন ব্যাকআপ সার্ভিস নিরাপদভাবে আপনার মোবাইলের ডাটা কপি করে সংরক্ষণ করে। পরবর্তীকালে দুর্ঘটনাক্রমে আপনার ফোন হারিয়ে গেলে কিংবা আপনি ফোনটি পরিবর্তন করলে, সংরক্ষিত ডাটা পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।

ফোনের তথ্য ব্যাকআপের জন্য তিনটি অপশন রয়েছে:
  • হ্যান্ডসেট ক্লায়েন্ট:
    উন্নত ক্লায়েন্ট সাপোর্ট জিপিআরএস/এজ-সম্বলিত উচ্চ মানসম্পন্ন হ্যান্ডসেট, যেখানে একটি ওয়াপ অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোডের মাধ্যমে ব্যাকআপ এবং রিস্টোর সংঘটিত হয় এবং হ্যান্ডসেটে সংরক্ষিত হয়।
     
  • সিংকএমএল:
    সিংকএমএল ক্লায়েন্ট সাপোর্ট জিপিআরএস/এজ-সম্বলিত মাঝারি মানের হ্যান্ডসেট, যেখানে ফোন ব্যাকআপ ওয়েবসাইটের এককালবর্তীকরণের মাধ্যমে ব্যাকআপ এবং রিস্টোর সংঘটিত হয়।
সাবস্ক্রাইব করা সকল গ্রাহকের একটি ফোন ব্যাকআপ অ্যাকাউন্ট থাকবে, যেখানে তারা পাসওয়ার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে একটি ওয়েব পোর্টাল থেকে তথ্য পাঠাতে, সম্পাদনা করতে, দেখতে এবং সংরক্ষিত তথ্য ফিরে পেতে পারবেন।
এসএমএস ব্যাকআপ:
এসএমএস ব্যাকআপ যেকোনো ধরনের হ্যান্ডসেটে, যেমন, জিপিআরএস/এজ-সম্বলিত কিংবা জিপিআরএস-বিহীন উভয় ধরনের হ্যান্ডসেটেই কাজ করে।
সাবস্ক্রাইব করা সকল গ্রাহকের একটি ফোন ব্যাকআপ অ্যাকাউন্ট থাকবে, যেখানে তারা পাসওয়ার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে একটি ওয়েব পোর্টাল থেকে উপাত্ত পাঠাতে, সম্পাদনা করতে, দেখতে এবং সংরক্ষিত তথ্য ফিরে পেতে পারবেন।
*জিপিআরএস/এজ-সম্বলিত হ্যান্ডসেটের জন্য ফোন ব্যাকআপ ইউসেজ বাংলালিংক ওয়াপ ব্রাউজিং (apn: blwap)-এর সাহায্যে সম্পন্ন হবে।


প্যাকেজ-সমূহ ক্লায়েন্ট-ভিত্তিক প্যাকেজ
(উন্নত ও সিংকএমএল গ্রাহকের জন্য জিপিআরএস/এজ-সম্বলিত হ্যান্ডসেট সমর্থিত)
এসএমএস-ভিত্তিক প্যাকেজ
(সব ধরনের জিপিআরএস/নন-জিপিআরএস-সম্বলিত হ্যান্ডসেট সমর্থিত)
ব্যাকআপ অপশন কনট্যাক্ট, এসএমএস, ফটোস, ভিডিওস, অডিও, ক্যালেন্ডার এবং কার্যসূচী কনট্যাক্ট
সাবস্ক্রাইব করতে টাইপ করুন start এবং পাঠিয়ে দিন ৬৬০০ নম্বরে টাইপ করুন start<স্পেস>p এবং পাঠিয়ে দিন ৬৬০০ নম্বরে
আন-সাবস্ক্রাইব করতে টাইপ করুন stop এবং পাঠিয়ে দিন ৬৬০০ নম্বরে টাইপ করুন stop এবং পাঠিয়ে দিন ৬৬০০ নম্বরে
মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি* টাকা ২০ টাকা ১০

*ভ্যাট এবং উপাত্ত চার্জ প্রযোজ্য
এসএমএস বেসড প্যাকেজ থেকে ক্লায়েন্ট বেজড প্যাকেজে উন্নতিকরণ: টাকা ১০

Wednesday, February 20, 2013

মোবাইল ফোন ও রিংটোন: শরয়ি আহকাম

মোবাইল ফোন ও রিংটোন: শরয়ি আহকাম

- মুহাম্মাদ মুফিজুল ইসলাম

 

আজকাল অনেককে রিংটোন হিসেবে আজান, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ইত্যাদি ব্যবহার করতে দেখা যায়। দীনদার ও ধার্মিক শ্রেণীর লোকদের দ্বারাই এ কাজটি সাধারণত বেশি হয়। আমার মনে হয়, তারা এ কাজটি এ ধারণায় করে থাকেন যে, অন্যেরা যখন গান, বাজনা ইত্যাদিকে রিংটোন হিসেবে ব্যবহার করে, আমরাও তাদের মোকাবেলায় আজান, কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি ভালো জিনিসকে রিংটোন হিসেবে ব্যবহার করব। যাতে মোবাইল ফোনের রিংটোনের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও গান-বাদ্যের পরিমাণ হ্রাস পায়!

এসব লোকের নিয়ত ভালো। এমন সুন্দর নিয়তের কারণে তারা ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু যেহেতু বেশ কয়েকটি কারণে শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে রিংটোন হিসেবে এগুলোর ব্যবহার জায়েয নেই তাই এসব থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। নিম্নে আজান ইত্যাদি রিংটোন হিসেবে ব্যবহার নাজায়েয হওয়ার কারণগুলো তুলে ধরা হলো।
(ক) আজান আল্লাহ তা‘আলার একত্ববাদ, বড়ত্ব ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের সাক্ষ্য সম্বলিত কিছু বাক্যের সমষ্টি যা ইসলামি শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিআর বা প্রতীক। অনুরূপভাবে পবিত্র কুরআনের আয়াত ও আল্লাহ তা‘আলার নামের জিকির যে কত মর্যাদাপূর্ণ বিষয় তাও বলার অপেক্ষা রাখে না।
এদিকে মোবাইলে রিং আসার অর্থ হলো, আপনাকে একথা অবহিত করা যে, কেউ আপনার সাথে কথা বলতে চায়। এখন ‘কেউ আপনার সাথে কথা বলতে চায়’ এই খবরটুকু দেওয়ার জন্য কি মহান আল্লাহর বড়ত্ব সম্বলিত আজান ও মহামর্যাদাপূর্ণ কুরআনের আয়াত বা জিকির ব্যবহার করা সমীচীন? এসব আওয়াজকে এই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করাটা পবিত্র শব্দসমূহকে অবমাননা ও অপাত্রে ব্যবহার করার শামিল নয় কি ?

কোনো বিক্রেতা যদি ক্রেতাকে আকৃষ্ট করার জন্য জোরে জোরে সুবহানাল্লাহ বলে কিংবা কোনো পাহারাদার যদি জোরে জোরে জিকির করার মাধ্যমে নিজের জাগ্রত থাকার বিষয়টি লোকজনকে অবহিত করে তাহলে ফিকাহবিদগণ একেও পবিত্র শব্দসমূহের অপব্যবহার বলে আখ্যা দিয়েছেন। এবার আপনারাই চিন্তা করে দেখুন, এসব ক্ষেত্রে যদি জিকিরের ব্যবহার ‘পবিত্র শব্দসমূহের অপব্যবহার’ হয়ে থাকে তাহলে ‘মোবাইলে কল এসেছে’ এ খবর দেওয়ার জন্য কুরআন তিলাওয়াত, আজান ইত্যাদির ব্যবহার কেমন হবে?
(খ) মোবাইল নিয়ে বাথরুমে প্রবেশ করার পর রিং আসলে অপবিত্র স্থানে পবিত্র তিলাওয়াত, আজান, জিকির ইত্যাদি বেজে উঠবে। এতে এগুলোর পবিত্রতা কত মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হয় তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
(গ) রিংটোন হিসেবে কুরআন তিলাওয়াত ব্যবহার করলে অনেক সময় এমন হওয়া স্বাভাবিক যে, কে কল করেছে তা দেখা ও কল রিসিভ করার ব্যস্ততার দরুণ তিলাওয়াতের প্রতি ভ্রƒক্ষেপ করার সুযোগ হয় না। অথচ আদব হলো, কুরআন তিলাওয়াত চলতে থাকলে কাজ বন্ধ করে মনোযোগ দিয়ে তিলাওয়াত শ্রবণ করা।
(ঘ) কারো মোবাইলে রিং আসলে সে যেহেতু রিসিভের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং রিসিভ করাই তার মূল উদ্দেশ্য থাকে তাই আয়াতের যে কোনো স্থানেই তিলাওয়াত চলতে থাকে সেদিকে খেয়াল না করে রিসিভ করে ফেলে। ফলে অনেক সময় উচ্চারিত অংশের বিবেচনায় আয়াতের অর্থ বিকৃত হয়ে যায়। আর পবিত্র কুরআনের অর্থ বিকৃতি যে কত বড় গুনাহের কাজ তা বলাই বাহুল্য!

 মোটকথা বহু কারণেই আজান, জিকির, তিলাওয়াত ইত্যাদিকে রিংটোন হিসেবে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন। আমীন।
[আল আশবাহ ওয়ান্ নাযায়ের, পৃষ্ঠা ঃ ৩৫  আল কাফী, খণ্ড ঃ ১, পৃষ্ঠা ঃ ৩৭৬  ফাতাওয়ায়ে আলমগীরি, খণ্ড ঃ ৫, পৃষ্ঠা ঃ ৩১৫  আত্ তিবইয়ান ফি আদাবি হামালাতিল কুরআন, পৃষ্ঠা ঃ ৪৬  রদ্দুল মুহতার, খণ্ড ঃ ১, পৃষ্ঠা ঃ ৫১৮]
রিংটোন হিসেবে গান ও মিউজিক কখনোই ব্যবহার করবেন না ইসলামি শরিয়তে গানবাদ্য করা, শুনা নাজায়েয ও হারাম। বাজনা-মিউজিক ইত্যাদি গানের সাথে শুনা কবীরা গুনাহ। গান ছাড়া পৃথকভাবে শুনাও গুনাহ। তাই যে কোনো ধরনের গান-বাজনা, মিউজিক টোন ইত্যাদি মোবাইলের রিংটোন হিসেবে ব্যবহার করা নাজায়েয ও গুনাহের কাজ। তাছাড়া এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষ্যণীয়, মিউজিক বা গান রিংটোন হিসেবে ব্যবহার করলে নিজে শুনার গুনাহ তো আছেই, সেই সাথে যেখানে রিংটোন বেজে উঠে সেখানকার আশেপাশের লোকদেরকে গান-বাদ্য শুনানোর গুনাহও হয়। তদুপরি এমন রিংটোন মসজিদে বেজে ওঠলে মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুন্ন হয়। অথচ অনেক ভাইকে দেখা যায়, তারা মোবাইলের রিংটোন হিসেবে গানের টোন, মিউজিক ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকেন। কেউ কেউ আবার মোবাইল কোম্পানি, কম্পিউটার বা অন্য মোবাইল থেকে পছন্দের গান, মিউজিক ইত্যাদি নিজের মোবাইলে ডাউনলোড করে তাকে রিংটোন হিসেবে ব্যবহার করেন।

আশ্চর্যের কথা হলো, ওদের ভাবসাব দেখে মনে হয়, এসব অন্যায় ও শরিয়ত বিরোধী কাজ করতে পেরে তারা বেশ খুশি! হায়রে মুসলমান! তোমরা যদি এই অন্যায়ের অপকারিতা ও ক্ষতি সম্পর্কে জানতে এবং তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা ভাবনা করতে তাহলে কখনো এহেন গর্হিত কাজ করতে সাহস পেতে না। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রিংটোন হিসেবে গানের টোন, মিউজিক ইত্যাদি ব্যবহার করা থেকে হেফাজত করুন। আমীন।
[সূরা লোকমান, আয়াত ঃ ৬  বোখারি শরিফ , খণ্ড ঃ ২, পৃষ্ঠা ঃ ৮৩৭  তিরমিযি শরিফ, খণ্ড ঃ ১, পৃষ্ঠা ঃ ২৪১  সুনানে ইবনে মাজাহ, পৃষ্ঠা ঃ ৩০০  আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব, খণ্ড ঃ ৪, পৃষ্ঠা ঃ ১৮৪  শামী, খণ্ড ঃ ৯, পৃষ্ঠা ঃ ৫৬৬  আল গিনা ফিল ইসলাম, পৃষ্ঠা ঃ ৮৭  ফতহুল কাদীর, খণ্ড ঃ ৬, পৃষ্ঠা ঃ ৪৮২]

  রিংটোন হিসেবে সালামের ব্যবহার নাজায়েয নয়
কারো মোবাইলে কল আসলে তা মোবাইলধারীকে অবহিত করার জন্য যে আওয়াজটি বেজে উঠে তা আমাদের সবার কাছে ‘রিংটোন’ হিসেবে পরিচিত। অনেকে স্বীয় মোবাইলে সালাম ডাউনলোড বা রেকর্ড করার পর তাকে রিংটোন হিসেবে ব্যবহার করে। এরূপ করায় শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো সমস্যা নেই। অর্থাৎ সালামকে রিংটোন হিসেবে ব্যবহার করা জায়েয। কেননা সালামের দুটি দিক রয়েছে। একটি হলো, সালামকে অপরের জন্য দোয়া বা অভিবাদন হিসেবে ব্যবহার করা; আর অপরটি হলো, কারো ঘরে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনার জন্য ব্যবহার করা। মোবাইলের রিংটোনও এ দ্বিতীয় প্রকারের সাথে কিছুটা মিলে যায় বিধায় রিংটোন হিসেবে সালামের ব্যবহার নাজায়েয নয়। [মোবাইল ফোনের শরয়ি আহকাম, পৃষ্ঠা ঃ ২৯] 

  বাচ্চাদের কান্না থামানোর জন্য নাজায়েয রিংটোন বাজানো মারাত্মক অন্যায়
অনেক মা-বোনকে দেখা যায় তারা বাচ্চাদের কান্না থামানোর জন্য মোবাইলে গানের রিংটোন বাজিয়ে থাকেন। আমার ধারণা, এর মারাত্মক পরিণতি ও গুনাহের বিষয়টি অজানা থাকার কারণেই তারা এমনটি করে থাকেন। তারা হয়তো মনে করেন, বাচ্চাদের তো শরিয়তের বিধি-নিষেধ পালন করা জরুরি নয়! অথচ তারা জানেন না যে, শরিয়তের হুকুম আহকাম বাচ্চাদের জন্য পালন করা জরুরি না হলেও বড়দের জন্য এটা জায়েয নেই যে, তারা বাচ্চাদের দ্বারা শরিয়ত বিরোধী কোনো কাজ করাবেন। যেমন, ফেকাহবিদগণ বলেছেন, বয়স্ক ব্যক্তিরা যদি ছোটদেরকে কিবলার দিকে ফিরিয়ে প্রস্রাব করায় তাহলে এর দ্বারা বাচ্চাদের কোনো গুনাহ হবে না ঠিকই, কিন্তু বয়স্করা অবশ্যই গুনাহগার হবেন। অনুরূপভাবে কোনো ছোট বাচ্চার ছবি উঠালে বাচ্চাটির কোনো গুনাহ না হলেও যিনি ছবি উঠালেন তার নিশ্চয়ই গুনাহ হবে। এমনিভাবে বাচ্চাদেরকে গানের বাজনা শুনানোর একই হুকুম। অর্থাৎ যিনি শুনাবেন তিনি গুনাহগার হবেন। 

এখানে আরেকটি লক্ষণীয় বিষয় হলো, যে গান-বাজনায় অন্তর গাফেল হয়, হৃদয়ে মুনাফেকী সৃষ্টি হয়, মন শক্ত হয়ে যায়, আল্লাহর ভয় লোপ পায় সে গান-বাজনা কী করে আমরা আমাদের কলিজার টুকরা বাচ্চাদের কান্না থামানোর জন্য ব্যবহার করছি? আমরা কি একটি বারও খেয়াল করে দেখেছি যে, এই গান-বাদ্য শুনানোর দ্বারা কোমলমতি বাচ্চাদের অন্তরে আমরা পাপ-প্রবণতার বীজ বপন করছি? অথচ আমরা ইচ্ছা করলে কান্না থামানোর জন্য অন্য কোনো পদ্ধতি যেমন পশু-পাখির টোন, রেকর্ডকৃত হামদ-নাত ইত্যাদি শুনাতে পারি।

আসলে আমাদের মধ্যে আজ পাপ ও পাপের ভয়াবহ পরিণতির উপলব্ধি অনেকাংশে কমে গেছে। যার ফলে অনেক সময় আমাদের মধ্যে এ চিন্তাটুকুও আসে না যে, আমরা যা করছি তাতে শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো পাপ নেই তো? তাতে আল্লাহ তা‘আলা নারাজ হবেন না তো? মুসলমান হিসেবে এই কাজটি আমাদের জন্য অশোভনীয় নয় তো? ইত্যাদি। আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে গুনাহের মারাত্মক পরিণতি ও কঠিন শাস্তির কথা চিন্তা করে যাবতীয় গুনাহ থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। [মোবাইল ফোনের শরয়ি আহকাম, পৃষ্ঠা ঃ ৫২]

 

Source: http://alhudaonline.com

Tuesday, February 12, 2013

সন্তান ধারণে ও সন্তান পালনে ফ্রি পরামর্শ করুন

সন্তান ধারণে ও সন্তান পালনে ফ্রি পরামর্শ করুন 


সন্তান ধারণে ও সন্তান পালনে ফ্রি পরামর্শ করুন এই ফোন নং-এঃ  ০৯৬১২-২২২৩৩৩ । সুপারমম হটলাইন ২৪ ঘন্টা, সপ্তাহে ৭ দিন আপনার ফোনের অপেক্ষায় । ব্রাউজ করুন এই ওয়েবসাইটঃ http://www.supermombd.com

Sunday, December 30, 2012

মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেশে প্রতারণা!! সবার জানা থাকা উচিত।

মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেশে প্রতারণা!! সবার জানা থাকা উচিত।


মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেশে প্রতারণার সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ভুয়া কুইজের পর এবার লটারির মাধ্যমে পুরষ্কার জেতার কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে জালিয়াতেরা। ‘হ্যালো! আমি গ্রামীণফোন কলসেন্টার থেকে সুমন আহমেদ রাকিব বলছি। আপনার ব্যবহৃত নম্বরটি লটারিতে পালসার মোটরসাইকেল পেয়েছে। আপনি মোটরসাইকেলের বদলে দুই লাখ ৬২ হাজার টাকা নিতে পারেন। তবে আজ বিকেল পাঁচটার মধ্যেই আপনাকে ট্যাক্সসহ আনুষ্ঠানিকতা মেটাতে হবে।’

গত ৬ সেপ্টেম্বর খবরটি শুনে খুশি হন পান্থপথের বাসিন্দা মো. শামস জুবায়ের। ০১৭৫৯-৫১৮৫০৩ নম্বর থেকে আসা ওই লটারি নিয়ে তাঁর মনে খটকা নেই। কারণ, রাকিব নামে ওই প্রতারক তাঁর মায়ের নাম, জন্ম তারিখসহ গোপনীয় তথ্য জানিয়েছেন। শামসকে জানানো হয়, ২০টি নম্বরে ৩৯ হাজার ২৫০ টাকা ফ্লেক্সিলোড করতে হবে। এগুলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিভিন্ন হিসাবের মোবাইল ফোন নম্বর। একই সঙ্গে পুরস্কারের অর্থ পাঠাতে মো. শামসের ব্র্যাক ব্যাংকের হিসাব নম্বর এবং তাঁর কর শনাক্তকরণ নম্বরও জেনে নেন কথিত কলসেন্টারের রাকিব।

বেলা আড়াইটার মধ্যে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ১৮টি ফোন নম্বরে এক হাজার টাকা করে মোট ১৮ হাজার এবং আরেকটি নম্বরে ২৫০ টাকা ফ্লেক্সি করেন শামস। এর মধ্যে সাতটি গ্রামীণফোনের, ২০টি বাংলালিংকের, একটি এয়ারটেল এবং একটি রবির সংযোগ। শামসের মোবাইল ফোনে খুদে বার্তায় জানানো হয়, ‘ইউর একাউন্ট হ্যাজ বিন রিফিলড সাকসেসফুলি বাই টাকা ২৫,৫৭০। ইউর ট্রানজেকশন আইডি ইজ বিডি ৩০২২১১১২৭০৭৭৩।’ শামস ব্র্যাক ব্যাংকের হিসাবে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলেন, সেখানে টাকা যায়নি। শামস অর্থ জমা না হওয়ার বিষয়টি রাকিবকে জানান। রাকিব দ্রুত বাকি অর্থ পরিশোধের তাগাদা দিলে শামসের সন্দেহ হয় এবং তিনি আর টাকা ফ্লেক্সি করেননি। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে।
পরে ঘটনাটি সাধারণ ডায়েরি করে গ্রামীণফোনে জানানো হয়। কর্তৃপক্ষ ‘লটারি চক্রে’ ব্যবহূত গ্রামীণ ফোনের সংযোগগুলো বন্ধের আশ্বাস দেন। একইভাবে বাংলালিংক ও রবি কর্তৃপক্ষও তাদের সংযোগ বন্ধে পদক্ষেপ নেয়। কিন্তু সবগুলো নম্বর প্রি-পেইড হওয়ায় শামসের অর্থ আর ফেরত আসেনি। মো. শামসের ব্যক্তিগত তথ্য ওই সুমন আহমেদ কোথা থেকে পেল—এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, কলসেন্টারগুলোতে কাজের জন্য খণ্ডকালীন লোক নিয়োগ করা হয়। এদের কেউ কেউ কোনো তথ্য সংগ্রহ ও তার অপব্যবহার করতে পারে। বাংলালিংকের করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্সের প্রধান জাকিউল ইসলাম লটারি বা কোনো ধরনের সন্দেহজনক বিষয়ে কেউ অফার দিলে তা ১২১ নম্বরে ফোন করে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

রিচার্জের নামে প্রতারণা:
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সেলিম সামাদ জানান, তাঁর পরিবারের একটি মোবাইল ফোনে দুই হাজার টাকার ফ্লেক্সিলোড হওয়ার খুদে বার্তা এসেছে। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ওই ফ্লেক্সিলোড সংযোগ থেকে জনৈক ব্যক্তি ফোন দিয়ে সেলিম সামাদকে অনুরোধ করেন টাকাটা ফেরত দিতে। তা-ও আবার ‘বিকাশের’ মাধ্যমে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্ট অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, তাঁর ওই পোস্ট-পেইড সংযোগে কোনো অর্থ আসেনি। এদিকে তিনি অর্থ ‘বিকাশ’ না করায় এবং তাঁর প্রতারণা বুঝে ফেলায় ওই ব্যক্তি সেলিম সামাদকে হুমকি দিয়েছেন।
কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত মিসড কল:

বছর খানেক ধরে দেখা যাচ্ছে, +২৪৩ বা +৮৮০২৪০০ বা +০৯০৪ দিয়ে শুরু হওয়া নম্বর থেকে মোবাইল ফোনে মিসডকল আসছে। ওই সব নম্বরে কল ব্যাক করলেই মোবাইল ফোনের অর্থ শেষ। মোবাইল ফোন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলোর কোনোটা বিদেশে বসে করা হয়, কোনোটা বাংলাদেশে বসে কম্পিউটারের মাধ্যমে কল করা হয়। একে ‘সিম ক্লোনিং’ বলা হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ছানোয়ার হোসেন জানান, সিম ক্লোন ছাড়াও একটি বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে মোবাইল ফোনের তথ্য ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এমন ঘটনা ঘটেছে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের এমবিএ ছাত্র হাসান এর ক্ষেত্রেও। তিনি ফোন পান এয়ারটেল কাস্টমার কেয়ার থেকে। ফোনের ব্যাক্তিটি তাকে ওয়ারিদ থেকে এয়ারটেল হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করেন এবং এয়ারটেলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিক উপলক্ষ্যে একটি র‍্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানায়। যেখানে প্রথম সাত জনকে ৭৫ হাজার টাকা পুরষ্কার দেয়া হবে। এই ড্র-তে হাসানে মোবাইল নাম্বারটি উঠেছে বলে জানানো হয় এবং হাসান কিভাবে টাকাটা পেতে চান – মোবাইলে না নগদে তা জানতে চাওয়া হয়। তিনি মোবাইলেই থাকুক বলে জানালে তাকে পুরষ্কারের টাকা পাওয়ার জন্য একটি নাম্বারে ফ্লেক্সি করতে বলে হয়। এসময় তাকে এর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কাস্টোমার কেয়ারের একজনের সাথে কথা বলানোর ব্যবস্থা করে দেয়া হবে বলে জানানো হয়।
এই সময় হাসানের মনে সন্দেহ জাগে, কিছুদিন আগে তার পাশের বাসার এক ব্যক্তি এভাবে ২ লক্ষ হারিয়েছে বলে শুনেছিলেন তিনি। আর তাই সঙ্গে সঙ্গে লাইন কেটে দিয়ে এয়ারটেলের কাস্টোমার কেয়ারে ফোন করেন তিনি। এয়ারটেলের গ্রাহকসেবা তাকে ব্যাপারটা ভুয়া বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন এধরণের কোন উদ্যোগ প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া হলে তা গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হবে। এবং এধরণের ফোন কল পেলে টাকা দেয়ার আগে গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে ফোন করে এর সত্যতা যাচাই করে নেয়ার পরামর্শ দেন তারা।